০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯

এনএসইউতে নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬  © সৌজন্য প্রাপ্ত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিজওয়ান খায়ের। তিনি সাধারণ শিক্ষা (জেনারেল এডুকেশন) কোর্স দিয়ে বিভাগের যাত্রা শুরু থেকে ধীরে ধীরে অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) প্রোগ্রামে পূর্ণাঙ্গ স্নাতক প্রোগ্রাম চালুর কথা তুলে ধরেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সামাজিক পরিবর্তন বোঝা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ গঠনে সমালোচনামূলক চিন্তা (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ্য অধ্যাপক আব্দুর রব খান প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও সমাজকে গভীরভাবে বোঝার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রোপলজির বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তা অধ্যাপক এস এম নুরুল আলমের একাডেমিক যাত্রা এবং বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার বিকাশে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন এনএসইউ’র কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের শিক্ষক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।

মূল বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপলজির সাবেক অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম তার দীর্ঘ একাডেমিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার শুরুর দিকের কথা তুলে ধরেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লক্ষ্য না বানিয়ে অ্যানথ্রোপলজিকে জীবন, সমাজ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার একটি উপায় হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম অ্যানথ্রোপলজির পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, বর্তমান সময়ের সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে সব সময় বোঝা বা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষায় ধারণাগত জ্ঞানের সঙ্গে মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার যোগসূত্র থাকা প্রয়োজন।

ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সিম্পোজিয়ামে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রাম ও চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের মধ্যে একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

প্রস্তাবিত এ কার্যক্রমের আওতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ইউনান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ একটি শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এতে তাদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হবে।

সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফল ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া। একাডেমিক পর্বের পর অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ও পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোহাম্মদ হোসেন। এ সময় অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের কো- অর্ডিনেটর ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহমা রাইসা ও নাজহাত নাহিয়ান তাইমুর।