০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৩

বিইউবিটিতে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ  © সংগৃহীত

শিশু-কিশোরদের মহাকাশ বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযাত্রার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) তে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’।

দিনব্যাপী এই আয়োজন যৌথভাবে করে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। এতে দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করে।

এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশুদের স্পেস স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, চিন্তা, কল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ৩ মিনিটের উপস্থাপনা করে। প্রথম ধাপ থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে ৫ মিনিটের চূড়ান্ত স্টোরিটেলিং-এ অংশ নেয়।

প্রতিযোগীদের বয়স অনুযায়ী ৬–৮ বছর, ৯–১১ বছর এবং ১২–১৪ বছর—এই তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে তিনটি বয়সভিত্তিক গ্রুপ থেকে মোট ১৫ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, পুরো দিনজুড়ে শিশুদের জন্য ছিল মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন হাতে-কলমে কার্যক্রম। এর মধ্যে ছিল স্পেস রোবটিক্স, রোবটিক্স ওয়ার্কশপ, রকেটারি ওয়ার্কশপ, স্পেস আর্ট এবং বিভিন্ন ইন্টার‌্যাকটিভ স্পেস সায়েন্স কার্যক্রম।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে শিশুদের ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মহাকাশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দেখানো হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, কল্পনা ও আনন্দ—সব মিলিয়ে পুরো দিনটি শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে এক ভিন্ন ধরনের মহাকাশ অভিজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী, উপাচার্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিশুদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহলী হওয়ার পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে হবে। জ্ঞান অর্জন, পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান, ডিন, ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)।

বিচারকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আল ইমতিয়াজ, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)। তিনি শিশুদের উপস্থাপনা, মহাকাশ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তাদের কৌতূহল ধরে রাখার জন্য উৎসাহিত করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আরিফুল হাসান অপু, প্রেসিডেন্ট, স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও সম্মানিত বিচারকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এবং তিনটি বয়সভিত্তিক গ্রুপের ১৫ জন বিজয়ীর হাতে মেডেল তুলে দেওয়া হয়।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, “আমরা চাই শিশুদের কাছে মহাকাশ শুধু বইয়ের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকুক। তারা মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করুক, নিজের মতো করে ভাবুক, গল্প বলুক, রোবট তৈরি করুক, রকেট নিয়ে জানুক এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী ও মহাকাশকে কল্পনা করুক। আজকের এই শিশুদের মধ্য থেকেই হয়তো একদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা মহাকাশচারী তৈরি হবে।”

আয়োজকদের মতে, ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিশুদের মহাকাশ বিজ্ঞানকে আনন্দের সঙ্গে শেখা, নিজের চিন্তা প্রকাশ করা এবং হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম।

এই আয়োজনে Technology and AI Partner হিসেবে যুক্ত ছিল Rise Up Labs এবং Payment Partner হিসেবে ছিল SurjoPay। এছাড়াও Partner হিসেবে যুক্ত ছিল BUBT-এর BASIS Students’ Forum BUBT Chapter। তাদের সার্বিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

দিনশেষে পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও গ্রুপ ফটোগ্রাফির মধ্য দিয়ে শেষ হয় ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬। মহাকাশের গল্প, রোবট, রকেট, শিল্প আর নতুন কিছু জানার আনন্দে শিশুদের জন্য পুরো দিনটি হয়ে ওঠে একটি স্মরণীয় মহাকাশযাত্রা।