০৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০৬

ইউআইইউতে ‘ইকোনথন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

ইউআইইউতে ইকোনথন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত  © সংগৃহীত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইকোনোমিক্স বিভাগের সহযোগীতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরাম’র (জেইএফ) উদ্যোগে জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক  প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’ -এর গ্র্যান্ড ফাইনালে আজ ০৩ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ৩:০০টায় ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান
উপদেষ্টা জনাব হাসান মাহমুদ রাজা। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা জনাব কে. এম. এ. শামীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আবুল কাশেম মিয়া। প্রোগ্রাম সঞ্চলনা করেন ইউআইইঊ এর অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: ওমর ফারুক।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২৪টি দল ‘ইকোনথন ২০২৬’ -এ নিবন্ধন করে। এই প্রতিযোগীতার উদ্দেশ্য পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক যুক্তিবোধ নিশ্চিতের সুযোগ সৃষ্টি করা। বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের শিক্ষালব্ধ জ্ঞান সৃজনশীল ও সমালোচনামূলকভাবে প্রয়োগ করতে এটি অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করে।

প্রধান অতিথি জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে ‘ইকোনথন’ একটি চমৎকার মঞ্চ। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করতে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণদের গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, সবকিছু একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি ও চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো নীতি কাগজে সুন্দর দেখালেই যথেষ্ট নয়; সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, কত ব্যয় হবে, কারা উপকৃত হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের বোঝা কার ওপর পড়বে-এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।

ঊঈঙঘঞঐঙঘ-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় বিচারকরা যেমন অংশগ্রহণকারীদের ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা মূল্যায়ন করেছেন, সরকারকেও প্রতিদিন বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের বাস্তবতা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দেয়।

অতিথি জনাব হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, শিক্ষা পাঠ্যবই ও শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি মনে করেন এই প্রতিযোগীতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে নিজেদের জ্ঞান প্রয়োগ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে সহায়তা করবে।
ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘ইকোনথন ২০২৬’ শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের এবং সফল আয়োজনের জন্য জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরাম (জেইএফ) -কে অভিনন্দন জানান।

‘ইকোনথন ২০২৬’ প্রতিযোগীতায় পুরস্কারের পুল ছিলো মোট ২,৬৫,০০০/- টাকা । উক্ত প্রতিযোগীতায় নর্থ সাথউ ইউনিভার্সিটি’র ‘ভিনি বিডি ভিসি’ দল গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে পেয়েছে ১,০০,০০০/- টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেল্ড’ দল প্রথম রানার-আপ হয়ে পেয়েছে ৭৫,০০০/- টাকা। ইউনাইটেড ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ‘ঢাকা ৯৯’ দল দ্বিতীয় রানার-আপ হয়ে পেয়েছে ৫০,০০০/- টাকা। পিপলস চয়েস দল সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি সহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দল প্রত্যেকে পেয়েছে ২০,০০০/- টাকা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি ছিলো না।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, প্রতিযোগী, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতাটির পাওয়ার্ড স্পন্সার ছিল ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। গোল্ড স্পন্সার ছিল ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্লাটিনাম স্পন্সার ব্র্যাক
ব্যাংক এবং ব্রোঞ্জ স্পন্সার হিসাবে ছিলো বনটন ফুডস।