২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৯

প্রয়োজনীয় জমির অর্ধেকও নেই প্রাইম ইউনিভার্সিটির, অডিটের আওতায় আনতে চায় ইউজিসি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও প্রাইম ইউনিভার্সিটির লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী সনদ পায়নি রাজধানীর মিরপুরের বেসরকারি প্রাইম ইউনিভার্সিটি। ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য প্রয়োজনীয় জমির অর্ধেকেরও কম রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির জমির পরিমাণ ৪২ শতাংশ; অথচ ঢাকা মহানগর এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ন্যূনতম এক একর বা ১০০ শতাংশ জমির শর্ত রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় জমির অর্ধেকও নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য বলছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ন্যূনতম এক একর জমি থাকা বাধ্যতামূলক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ অর্জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। 

কিন্তু প্রাইম ইউনিভার্সিটি সেই শর্ত আজও পূরণ করেনি। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ সালে এসেও স্থায়ী সনদের শর্ত পূরণ করতে পারেনি; যা উচ্চশিক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জন্যও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মাজার রোডের ১১৪/১১৬ একটি ১০ তলা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে প্রাইম ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া কনক্রিটের দেয়ালে বন্দি হওয়ার ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিস্তৃত একাডেমিক ও সহশিক্ষা পরিবেশ থাকার কথা সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মতে, প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পরও যদি স্থায়ী ক্যাম্পাসের মৌলিক শর্তই পূরণ না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের প্রত্যাশা কীভাবে পূরণ হবে? বর্তমান সরকার যেখানে খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে প্রাইম ইউনিভার্সিটি খেলার জন্য কোনো মাঠই দিতে পারেনি।

তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা আর সনদ নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ, উন্মুক্ত জায়গা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠন ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত ক্যাম্পাস-সুবিধা না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

জানতে চাইলে প্রাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী দীন মোহাম্মদ খসরু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাত্রই যোগদান করেছি, আপনি যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন তা সম্পর্কে আমি একেবারেই অবগত না, আপনি ভালোভাবে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার ও ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এ বিষয়ে প্রাইম ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফিরোজ মাহমুদ হোসেন টিটু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রায় ৪২ শতক জমি রয়েছে। আমরা দুই বছর ধরে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাছাকাছি জমি খোঁজাখোঁজি করছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটা জমি নির্বাচন করা হয়েছে। ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান দেশে আসলেই জমি কেনা হবে এবং এ বছরের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’

‘বিগত সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড় পেয়েছে। এখন এসব বিশ্ববিদ্যালয় অডিটের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’-অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইউজিসি সদস্য

বছরের পর বছর ছাড়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কমপক্ষে এক একর এবং অন্যান্য এলাকায় কমপক্ষে দুই একর জমি থাকার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী অবকাঠামোসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। 

আইনের উদ্দেশ্যই ছিল সাময়িক অনুমোদনের আড়ালে বছরের পর বছর সীমিত অবকাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করা। কিন্তু প্রাইম ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই যুগ পরও যদি জমির মৌলিক শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে আইনের বাস্তব প্রয়োগ কোথায়? প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘ দিনেও শর্ত পূরণ করতে না পারা বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে কেন এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি সেটি নিয়েও।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও কয়েকটি বিভাগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কি না সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার, সেখানে একটি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর স্থায়ী সনদের শর্ত পূরণ না করেও কার্যক্রম চালিয়ে যা কীভাবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য ও সংস্থাটির গণমাধ্যম মুখপাত্র অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিগত সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড় পেয়েছে। এখন এসব বিশ্ববিদ্যালয় অডিটের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’