প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির সেমিনারে এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ ও ‘বায়াস’ নিয়ে আলোচনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন মানুষের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে গবেষণা, শিক্ষা ও ব্যবসা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআই যতই উন্নত হোক, সব সময় যে সঠিক তথ্য দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় এআই এমন তথ্য তৈরি করে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আবার তথ্য বিশ্লেষণ বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতও দেখা দিতে পারে। এআইয়ের এসব সীমাবদ্ধতা এবং তা কমানোর উপায় নিয়ে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং মডার্ন এআই অ্যান্ড এনএলপি রিসার্চ’ শীর্ষক সেমিনারটি আজ রোববার রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ক্লাব (PU AI Club) এ আয়োজন করে। সেমিনারটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
সেমিনারে আধুনিক এআই, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) নিয়ে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেইনের পিএইচডি গবেষক উমায়ের রেজা। তিনি এনএলপির বিবর্তন এবং সাম্প্রতিক সময়ে LLM–ভিত্তিক এআইয়ের দ্রুত বিকাশের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ ও ‘বায়াস’। হ্যালুসিনেশন বলতে এআইয়ের এমন ভুল তথ্য তৈরি করাকে বোঝানো হয়, যা শুনতে বা দেখতে বিশ্বাসযোগ্য হলেও বাস্তবে সঠিক নয়। উমায়ের রেজা বলেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ভুল তথ্য শনাক্ত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের সঙ্গে তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এআইয়ের এসব সমস্যা কমাতে ‘অন্টোলজি’ ও ‘নলেজ গ্রাফ’ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, তথ্যকে শুধু বিপুল পরিমাণে সংরক্ষণ করলেই হবে না; কোন তথ্যের সঙ্গে কোন তথ্যের সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও কাঠামোবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। নলেজ গ্রাফ এ ক্ষেত্রে তথ্য ও ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে। এর মাধ্যমে এআই ব্যবস্থার তথ্য ব্যবহারের প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য করার সুযোগ রয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির। তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। এআই ও এনএলপির মতো নতুন প্রযুক্তিক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান নাঈম। তিনি বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে বর্তমান প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন। শিক্ষার্থীদের বিশ্বের সর্বশেষ গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে।
সেমিনারটি পরিচালনা করেন এআই ক্লাবের মডারেটর ও সহকারী অধ্যাপক মিনহাজুল আলম। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। আয়োজকেরা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার পাশাপাশি গবেষণার প্রতি তাঁদের আগ্রহ বাড়ানোই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।