জবি ছাত্রের আত্মহত্যা, নেপথ্যে প্রেম!
রাজধানীর বংশালে একটি মেস থেকে অনিক চন্দ্র পাল নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার সহপাঠী ও মেসসদস্যদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর থেকেই অনিক হতাশায় ভুগছিলেন। তবে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদই অনিকের মৃত্যুর কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের শিবপুর উপজেলায়। তার পরিবার সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
অনিকের মেসমেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে অনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে অনিকের এক সহপাঠী ফোনে তাকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নিতে জয়কে জানান। পরে জয় ও ওই সহপাঠী অনিকের কক্ষের সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। তিনি বলেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অনিকের সহপাঠী ও মেসের সদস্যদের ভাষ্য, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তার প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। এরপর থেকেই তিনি একাকী থ্যাকতেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের শিক্ষার্থী আর বেঁচে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। অনিকের পরিবারের সদস্যরা সিলেট থেকে আসছেন। তাদের উপস্থিতিতে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।