১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২

ডিআইইউতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-হুমকির দায় স্বীকার, অভিযুক্তদের সিট বাতিল

ডিআইইউতে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তদের দায় স্বীকার, হলের সিট বাতিল   © সংগৃহীত

রাজধানীর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এবং একজনের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। পরে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান অভিযুক্তরা।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সব হলের প্রভোস্ট, তদন্ত কমিটির প্রধান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি সভাপতি মো: আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ 

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাহিন অর রশিদ প্লাবন এবং তার ভাই প্রত্যয়ের তাৎক্ষণিকভাবে হলের সিটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও হলের সিট বাতিলের জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজ বরাবর সুপারিশ করেছে কমিটি। 

জানা গেছে, তদন্ত কমিটির সামনে অভিযুক্তরা ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানান। পরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়েরসহ ক্যাম্পাসের অন্যান্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান তারা। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি বা হয়রানি করবেন না বলেও মুচলেকা দেন। পরবর্তীতে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্পেও মুচলেকা দেওয়ার শর্ত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এর আগে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে ডিআইইউর তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এবং এক সাংবাদিককে আতর্কিত হামলার  অভিযোগ অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৬৮৯। একইসাথে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলার আবেদন করা হয়। এদিকে ঘটনার পর মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। 

এ ঘটনায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের বলেন, ক্যামপাসকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হুমকি দিয়ে আসছে৷ আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেছি। ক্যাম্পাসে শান্তি- শৃঙ্খলায় সাংবাদিকরা সবসময় তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মহোদয়কে অনুরোধ করবো যারাই এই অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায় তাদের প্রশ্রয় না দিয়ে বিষয়টির যথাযথ সুরাহা করা।