আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যান্ড মুটিং সোসাইটির সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে পেশাজীবনের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করা শিক্ষার্থীদের হাতে তাঁদের অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত আইনজীবীরা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির পরীক্ষার প্রস্তুতি, একাডেমিক জীবনে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়া এবং আদালতে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা পেশাগত জীবনে সফলতার জন্য একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান। সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী আইন বিভাগের অগ্রযাত্রার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তুলনামূলকভাবে নবীন বিভাগ হলেও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ ইতোমধ্যে বিচারব্যবস্থা, আদালত ও আইনাঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতেও বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান আইন পেশায় আদালতের বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো আদালত। একজন আইনজীবীর প্রকৃত পেশাগত যাত্রা শুরু হয় আদালতের বাস্তব চর্চার মধ্য দিয়ে।
নবনিযুক্ত আইনজীবীদের নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পেশাগত অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি পেশাগত ও শিক্ষামূলক সুযোগ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সময়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া শুধু বিভাগের জন্য নয়, পুরো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি নবনিযুক্ত আইনজীবীদের নিজ নিজ বার সমিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে অবদান রাখায় আইন বিভাগের শিক্ষক, অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ নবনিযুক্ত আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আইন পেশা কেবল জীবিকা নয়; এটি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি দায়িত্বশীল পেশা। তাই একজন আইনজীবীর জন্য পেশাগত সততা, নৈতিকতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, আইনজীবীরা শুধু তাঁদের মক্কেলদের প্রতিনিধিত্ব করেন না; একই সঙ্গে তাঁরা আদালতের কর্মকর্তা এবং আইনের শাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রক্ষক। এ বৃহত্তর দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে পেশাগত জীবনের একটি অংশ দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা বা সেবায় উৎসর্গ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নবনিযুক্ত আইনজীবীরা আইন বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে স্মারক দলীয় আলোকচিত্রে অংশ নেন। ভবিষ্যতেও বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান আয়োজকরা। তাঁদের মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পেশাজীবী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।