০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২৯

সেরা গবেষকদের সম্মাননা দিতে ইউএপিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’

ইউএপিতে রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন গবেষকরা   © টিডিসি ছবি

গবেষণা, উদ্ভাবন, জ্ঞানসৃষ্টি, মানসম্মত প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘ইউএপি রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করেছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গ্রীন রোডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছয়জন শিক্ষক-গবেষককে তাঁদের উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। 

ইউএপির ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআরআইডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব কে. এম. মোজিবুল হক। সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া।

ইউএপির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক, ক্রেস্ট ও সনদ লাভ করেন। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার যথাক্রমে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক, ক্রেস্ট ও সনদ পান। গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য আরও তিনজন শিক্ষক-গবেষককে ক্রেস্ট ও সনদ দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব কে. এম. মোজিবুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষের অন্যতম প্রধান ভিত্তি গবেষণা। গবেষণা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি ইউএপিতে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী করবে। দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী গবেষণায় তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, টেকসই একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে গবেষণার বিকল্প নেই। শিক্ষক-গবেষকদের স্বীকৃতি তাঁদের উচ্চমানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনার পাশাপাশি জনকল্যাণে ব্যবহারযোগ্য গবেষণাকে ইউএপি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও দেশের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ। দেশে শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে ইউজিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলতি বছর করের বোঝা ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং আগামী বছর আরও ৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই গবেষণা অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গবেষকদের ওপর বিনিয়োগ দেশের ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ।

উল্লেখ্য, ইউএপির কয়েকজন শিক্ষক-গবেষক বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিউ১ ও কিউ২ জার্নালে প্রকাশনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানে ইউএপি রিসার্চ পলিসি বুকলেট উন্মোচন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের গবেষণা কার্যক্রম প্রদর্শনের পাশাপাশি ইউএপির গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম এবং আইআরআইডি নিয়ে নির্মিত প্রমোশনাল ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।