৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৪

এনএসইউতে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রযোজনা নিয়ে দুই দিনের মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রযোজনা নিয়ে দুই দিনের মাস্টারক্লাসের আয়োজন।  © টিডিসি ফটো

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম (এমসিজে) বিভাগ চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রযোজনা নিয়ে দুই দিনের মাস্টারক্লাসের আয়োজন করেছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ‘মাস্টারক্লাস অন ফিল্ম অ্যান্ড কালচারাল প্রোডাকশন’ শীর্ষক এ আয়োজনে চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে চলচ্চিত্র, দেশভাগের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও সৃজনশীল প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনেরও আয়োজন ছিল। 

আয়োজনের প্রথম দিনে একুশে পদকপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্র ‘চিত্রা নদীর পারে’ প্রদর্শন করা হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পর দেশভাগের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কীভাবে উঠে এসেছে, তা নিয়ে মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন তানভীর মোকাম্মেল। 

পরে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গল্প বলার কৌশল, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং জাতীয় চলচ্চিত্রের বিবর্তন নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন। 

এ সময় তানভীর মোকাম্মেল বলেন, ‘তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কখনোই নিজেদের সৃজনশীল চিন্তাকে আটকে রাখা উচিত নয়। দর্শকের সঙ্গে ভালোভাবে যোগাযোগ তৈরি করতে হলে নিজের গল্প বলার ধরন ও সৃজনশীলতার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। স্বাভাবিকভাবে গল্প বলতে পারলেই তা দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে।’

দ্বিতীয় দিনে নির্মাতা আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীর পর চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পান উপস্থিত ব্যক্তিরা। চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী দেবদ্যুতি আইচ ক্যাম্পাসে তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং তরুণ নির্মাতাদের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। এদিন বিকেলে এমসিজে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নির্মিত কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সব সময়ই একটি আপন ঠিকানা হয়ে থাকবে। তাঁদের আগ্রহ ও সৃজনশীলতা বিকাশে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের সৃজনশীল চর্চাকে এগিয়ে নিতে আমরা সব সময় পাশে থাকব।”

আয়োজকদের প্রশংসা করে ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, “আমরা আশা করি, এমসিজের শিক্ষার্থীরা তাঁদের সৃজনশীল যাত্রাকে স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিসরে নিয়ে যাবে এবং তাঁদের শিল্পীসত্তা ও সৃজনশীল ভাবনাকে বিশ্বের আরও বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবে।”

এমসিজে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকাশ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশে বিভাগের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. মো. হারিছুর রহমান বলেন, “আমরা এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই। এর মাধ্যমে এমন একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিল্প ও গণমাধ্যমের পেশাজীবীদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে, নিজেদের কাজ তুলে ধরতে পারবে এবং সৃজনশীল যাত্রায় নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

এমসিজে বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনের এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।