বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতিবিরোধী-বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অংশগ্রহণে ‘করাপশন অ্যান্ড এন্টি-করাপশন ইন বাংলাদেশ: অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেজ অব ইফেক্টিভ চেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটেরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, (ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খালেদ বিন ইউসুফ, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সসের সম্মানিত ডিন অধ্যাপক মো. শহীদুর রহমান এবং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ড. ইফতেখারুজ্জামান তার বক্তব্যে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনের ধারণা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি হলো জনগণের সার্বভৌমত্ব, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এসব মৌলিক নীতি দুর্বল হলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
দুর্নীতির বিভিন্ন ধরনের ব্যয় ও এর বহুমাত্রিক প্রভাব তুলে ধরে তিনি পেটটি করাপশন বা ক্ষুদ্র দুর্নীতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে দুর্নীতির প্রভাব এবং এর মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া দুর্নীতির রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় এবং দুর্নীতির সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতি কীভাবে একের পর এক সমস্যা তৈরি করে একটি দুর্নীতির দুষ্টচক্র সৃষ্টি করে, সেটিও ব্যাখ্যা করা হয়।
দুর্নীতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই চার্টারকে পরিবর্তনের সম্ভাব্য একটি প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরেন।
দুর্নীতি প্রতিরোধে ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি সিস্টেম কার্যকর করার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের সব অংশকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দায়িত্ব হিসেবে দেখলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন। এর জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন অংশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে দুর্নীতির পরিমাপের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। দুর্নীতির প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি যথাযথভাবে পরিমাপ করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আয়োজকরা বলেন, এ ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতি ও সুশাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তাঁদের ভূমিকা রাখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সবশেষে অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর মো. শহীদুর রহমান।