এনএসইউতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান বৈশ্বিক ব্যবস্থা: সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে সেমিনার
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান বৈশ্বিক ব্যবস্থা: সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ, এনএসইউর আইন বিভাগ এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর যৌথ উদ্যোগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুট কোর্ট রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এনএসইউর আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ।
তিনি আইন শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
সেমিনারের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর সহযোগী অধ্যাপক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক গবেষণা উদ্যোগের সহপরিচালক অলিভার রবার্টস। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন পরিভাষা এবং বৃহৎ ভাষাভিত্তিক মডেলের (এলএলএম) কার্যপ্রণালি নিয়ে আলোচনা করেন।
অলিভার রবার্টস বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এর প্রতিটি প্রয়োগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। তাই প্রযুক্তিটির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের পার্থক্য মানচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন পরিসংখ্যানের সাহায্যে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করেন। এ সময় তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নীতিমালা, এআই-সম্প্রদায় এবং চ্যাটবটের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার ও এর সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন রবার্টস। আইনজীবীদের পেশাগত কাজে বিনামূল্যের এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আইনজীবী তাদের পেশাগত কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছেন, যা পেশাগত ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
সেমিনারে বিচারিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি এবং ‘হ্যালুসিনেশন’-এর মতো ত্রুটি নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব ও কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্টের পার্থক্য শনাক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তা। এ সময় বিভিন্ন বিচারিক নজিরের আলোকে আইন ও বিচারব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করা হয়।
মূল আলোচনা শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, নৈতিকতা এবং এর আইনগত প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এনএসইউর আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. লোকমান হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান বক্তা অলিভার রবার্টসের হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি সফলভাবে শেষ হয়।