১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৫

মাদকের তথ্য প্রশাসনকে দেওয়া সন্দেহে রাতভর নির্যাতন, মাদক সেবন করিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ

আব্দুল্লাহ আল বাকী বাঁধন  © সংগৃহীত

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) বিজয়-২৪ হলের (৬ নম্বর হলে) মাদক সেবনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সরবরাহের সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে মারধর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং রাতভর একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৫শত টাকা আদায় এবং পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে  ভিডিও ধারণ ও মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হচ্ছেন-সিএসই  বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকী বাঁধন ও তার কয়েকজন সহযোগী।

ইয়াসিরের অভিযোগ, রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ নম্বর হলে সিএসই  বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকী বাঁধন ও তার কয়েকজন সহযোগী তাকে মাদক সেবনের তথ্য প্রশাসনকে সরবরাহের সন্দেহে মারধর করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে একটি কক্ষে রাতভর অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পাঁচ পিস ইয়াবা সেবনের টাকা হিসেবে তার কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৫শত টাকা আদায় করা হয়। পরবর্তীতে তার কাছে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ইয়াসির।

ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে জোরপূর্বক গাঁজা সেবন করানো হয়। পরে মাদক সেবনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে তাকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ইয়াসির।

ঘটনার পরদিন সোমবার (১০ আগস্ট) ভুক্তভোগী ইয়াসির আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং ৬ নম্বর হলের প্রভোস্ট শাহরিয়ার মাহমুদ মিনারের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানান। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বাঁধনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অতি শিগগিরই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ভুক্তভোগীকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বাঁধন ও তার সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।