০১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৪

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সচেতন, অন্ধ রাজনৈতিক ভক্ত নন: শিবির সেক্রেটারি

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামনে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনে শিবির সেক্রেটারি  © টিডিসি ছবি

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্ধ রাজনৈতিক ভক্ত নয়, বরং যৌক্তিক আন্দোলনে তারা সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

শনিবার (১ আগস্ট) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামনে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও জুলাই আন্দোলনে তাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একেকটি ক্যাম্পাসের ফোকাস একেক রকম। আমরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস দেখি, তাহলে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে মূলত নব্বইয়ের দশকের পর থেকে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। এই জায়গা থেকে আমরা দেখতে পাই, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বিষয় রয়েছে তারা অন্ধ রাজনৈতিক ভক্ত হয় না। তারা যৌক্তিক আন্দোলনে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করে।’

শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে আমরা সেটি দেখেছি। যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, হলগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই রাজপথে নেমে এসেছিল। এটি জাতির জন্য একটি বড় বার্তা।প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয় এবং বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, তারা সচেতন ভূমিকা রাখলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

জুলাই আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্বীকৃতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তবে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও উদ্যোগ নিতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।শহীদদের স্মৃতি ধারণ করার জন্য প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ভবন, স্থাপনা বা স্মৃতিচিহ্ন থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি শহীদদের নিয়ে বই লেখা, ডকুমেন্টারি নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি বড় আত্মত্যাগকে যেভাবে ধারণ করা ও স্মরণ করা দরকার ছিল, সে জায়গায় আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।জুলাইকে ধারণ করা শুধু একটি সংগঠনের কাজ নয়। এটি অন্যান্য ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম এবং সবার দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সবাই এগিয়ে আসবে এবং সবাই মিলে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।’