ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুইজন রিমান্ডে
সরকারি কাজে বাধা, সম্পত্তির ক্ষতি সাধান, চুরি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মকবুল আহমেদ খান এবং মো. নিছার উদ্দিন আকাশের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে শুনানি করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালত এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান খান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, চুরি হওয়া টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার এবং মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন। তারা জামিন পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ জুলাই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দারুসসালাম থানাধীন গাবতলীতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কক্ষে ঢুকে সরকারি কাজে বাধা দেয়। এসময় সিলগালা করা দুটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কক্ষের বিভিন্ন আসবাব ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। এর ফলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, আলমারিতে সংরক্ষিত প্রায় ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি, হিসাব শাখার ফাইলপত্র, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার ও ভিসির কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তারা আইনের অপব্যাখ্যা, ব্যক্তিগত আক্রোশ, অপমান, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ওই ঘটনায়
রাফিউল ইসলাম (২৮) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর বুধবার (২২ জুলাই) ভোর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আসামি ড. মকবুল আহমেদ খানকে এবং গাবতলী এলাকা থেকে নিহার উদ্দীন আকাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, আসামি ড. মকবুল হোসেনের নামে গোপালগঞ্জ সদর থানায় দুটি মামলা চলমান রয়েছে।