০৯ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৪

পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মঞ্জুরুল ইসলাম হাসিব ও গ্রিন ইউনিভার্সিটির লোগো   © টিডিসি সম্পাদিত

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম হাসিব (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় এলাকায় অ্যাডভোকেট আলী আকবরের বাসার সামনে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম হাসিব, আকাশ (২৫) ও ইমরান হাসান অনিক (২৪)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসিবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে পরিবারের সিদ্ধান্তে ধানমন্ডির গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হাসিব গ্রিন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বজনরা জানান, পড়াশোনা শেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই জীবনাবসান হলো মেধাবী এই শিক্ষার্থীর।

তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতাল ও বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাগাড় ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন অনেকেই। 

ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জোবায়ের হোসেন (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। পাশাপাশি পাগাড়সহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদার করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।