গবেষণা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় ইউএপি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক সই
গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউএপির উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইউএপিতে একটি টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত এ কেন্দ্র গবেষকদের উদ্ভাবন কার্যক্রমে সহায়তা, বৈশ্বিক পেটেন্ট তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গবেষক ও উদ্ভাবকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা এবং ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে সহযোগিতা দিতে ইউএপিতে ডিপিডিটির একটি সহায়তা কার্যালয় প্রতিষ্ঠায় অধিদপ্তর আগ্রহী। তিনি বলেন, টিআইএসসি প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং গবেষকেরা আন্তর্জাতিক পেটেন্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
ইউএপির আধুনিক ফার্মেসি গবেষণাগার এবং শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মেধাস্বত্ব সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএপি'র স্কুল অব ফার্মেসির ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা সহজতর হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা ইউএপিকে নিজস্ব মেধাস্বত্ব নীতিমালা (আইপি পলিসি) প্রণয়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো শক্তিশালী মেধাস্বত্ব কাঠামোর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ সমঝোতা স্মারক সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
ইউএপির স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তির (এমওএ) মাধ্যমে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণাগার ব্যবহারে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলী বলেন, এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষকেরা পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা অর্জন করবেন এবং তাঁদের উদ্ভাবন কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করতে পারবেন।
সমাপনী বক্তব্যে ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া ইউএপিতে ডিপিডিটির সহায়তা কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ডিপিডিটি'র উপ-পরিচালক (পেটেন্ট) মো. হাবিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ইউএপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির (এমওএ) প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় গবেষণাগার ও গবেষণা সুবিধা বিনিময় কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএপির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআরআইডি) পরিচালক অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ, ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জেবুন নাহার, ডিপিডিটি'র উপ-পরিচালক (পেটেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান, ইউএপি'র ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিহাব উদ্দিন আহমদ এবং আইআরআইডির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
এর আগে ডিপিডিটি'র মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং উপ-পরিচালক (পেটেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পেটেন্ট ও মেধাস্বত্ব বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করেন।