জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কৌশলগত বিনিয়োগ প্রয়োজন
জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ বাস্তবায়নে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতির পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন বিজনেস স্কুল (জিবিএস) আয়োজিত বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ পর্যালোচনা শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লার্নিং অ্যান্ড টিচিং ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির।
সেমিনারের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন আবির ও তাহমিদ ফেরদৌস জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ নিয়ে গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনা করেন। এতে বাজেটের আকার, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, রাজস্ব আহরণ, খাতভিত্তিক বরাদ্দ, বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, প্রবাসী আয়, জননিরাপত্তা ও কৃষিখাতের অগ্রাধিকার নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে কার্যকর বিনিয়োগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ কমানো, আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসংস্থানমুখী নীতি গ্রহণ জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা মোকাবিলায় প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে গ্রিন বিজনেস স্কুলের চেয়ারপার্সন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, জাতীয় বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি দেশের উন্নয়ন দর্শন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক আলোচনা শিক্ষার্থীদের নীতি বিশ্লেষণ ও গবেষণামুখী দক্ষতা বিকাশে সহায়ক।
সেমিনারে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারণে আগ্রহী বিভিন্ন অংশীজন এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।