ডিপফেক শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জিতলেন আইইউটির তিন শিক্ষার্থী
ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বর্ণপদক জিতেছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর তিন শিক্ষার্থী।
তাদের দল ‘রিয়েলিটি চেক’ সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা (ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ (আইডব্লিউসি) ২০২৬ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনোভেশন অ্যান্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন (থ্রিআইসি) ২০২৬) এ স্বর্ণপদক অর্জন করেছে।
দলটির সদস্যরা হলেন আইইউটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা মেহনাজ, নোশিন সাইয়ারা এবং তাসনিয়া রহমান মাহা। তারা ‘ড্রিমস অব বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৪৫৮টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি ছিল ‘মাল্টি-মোডাল ডিপফেক ডিটেকশন এআই’। যা ডিপফেক ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল কনটেন্ট শনাক্তকরণ নিয়ে কাজ করে। অত্যাধুনিক এই সিস্টেমটি ভিডিও, ছবি এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুয়া বা কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্য নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।
প্রকল্পটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এতে ‘হিউম্যান এক্সপার্ট ইন দ্য লুপ’ পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণের পাশাপাশি এখানে মানব বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নও যুক্ত করা হয়েছে, যা ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।
মালয়েশিয়ান ইনোভেশন ইনভেনশন ক্রিয়েটিভিটি অ্যাসোসিয়েশন (এমআইআইসিএ) এবং ইন্দোনেশিয়ান ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আই্ওয়াইএসএ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আসরটি গত ৩ থেকে ৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস নেগেরি জাকার্তা (UNJ)-এ অনুষ্ঠিত হয় এবং গত ৬ জুন জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এবারের আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গৌরবজনক। মোট ৯টি বাংলাদেশি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এবং প্রতিটি দলই গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে দেশের তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর মধ্যে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে ‘রিয়েলিটি চেক’ দলটি ‘স্টুডেন্টস’ বিভাগের ‘টেকনোলজি’ ক্যাটাগরিতেও আলাদাভাবে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অর্জন শুধু একটি দলের সাফল্য নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তাশক্তি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার এক শক্তিশালী প্রতিফলন। ডিপফেকের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় পরিসরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ‘রিয়েলিটি চেক’ দলের সদস্যরা তাদের এই সাফল্যের পেছনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ড্রিমস অব বাংলাদেশ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), তাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, মেন্টর এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।