১০ জুন ২০২৬, ১৩:৩৪

প্রো-ভিসি নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দিল গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়   © টিডিসি ফটো

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যাত্রা শুরু করা গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সা,মাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। 

একটি দূরদর্শী ও রূপান্তরমূলক লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘থ্রি জিরো’ বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে—যার মূল ভিত্তি হলো শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সামনে রেখে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা, টেকসই উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে। এটি শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি উদ্দেশ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক স্বীকৃত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত।

প্রাথমিক যোগ্যতা
• প্রার্থীর অবশ্যই বিশ্বের স্বনামধন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি থাকতে হবে এবং নিজ ক্ষেত্রে একজন খ্যাতিমান গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি থাকতে হবে।
• স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ১০ (দশ) বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
• শিক্ষকতা, গবেষণা এবং একাডেমিক/প্রশাসনিক নেতৃত্ব—এই ক্ষেত্রগুলো মিলিয়ে অন্তত ১৫ (পনেরো) বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

অতিরিক্ত যোগ্যতা
• শিক্ষাপ্রশাসনে একজন গতিশীল ও দূরদর্শী নেতা হতে হবে, যার দৃষ্টিভঙ্গি হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক।
• আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষক হতে হবে, যার উল্লেখযোগ্য ও প্রভাবশালী গবেষণা প্রকাশনা রয়েছে।
• সংকট ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং কৌশলগত নেতৃত্বে প্রমাণিত দক্ষতা থাকতে হবে।
• গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য অনুযায়ী একাডেমিক উৎকর্ষ, ন্যায্যতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার থাকতে হবে।
• বিভিন্ন একাডেমিক সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং সহযোগিতামূলক ও আন্তঃবিষয়ক উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে পারতে হবে।
• প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু করা এবং রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব প্রদানের মানসিকতা থাকতে হবে।

মূল দায়িত্বসমূহ
• উপাচার্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।
• শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপদ্ধতি গ্রহণে অনুপ্রাণিত ও সহায়তা করা।
• বিভিন্ন বিষয়ে শক্তিশালী গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে গবেষণার মান, প্রাসঙ্গিকতা এবং বৈশ্বিক প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
• নতুন সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম (কারিকুলাম) প্রণয়ন ও সংশোধনে কৌশলগত নেতৃত্ব দেওয়া।
• গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
• বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও বিনিময় কর্মসূচি গড়ে তোলা।
• বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

আবেদন প্রক্রিয়া
• প্রার্থী হিসেবে নিজেকে কেন যোগ্য মনে করেন—এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি (Candidate Statement) জমা দিতে হবে।
• হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (CV) জমা দিতে হবে, যার সঙ্গে একটি সারসংক্ষেপ পৃষ্ঠা থাকবে যেখানে প্রশাসনিক ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা, প্রকাশনার তালিকা (ইনডেক্সিং অনুযায়ী—যেমন Scopus, Web of Science) এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অর্জন উল্লেখ থাকবে।
• পাঁচ (৫) জন পেশাদার রেফারেন্সের নাম ও যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে।

আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় (recruitment@grameenu.ac) আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৭ জুন ২০২৬। ই-মেইলের সাবজেক্ট লাইনে অবশ্যই “Pro-Vice Chancellor” পদটি উল্লেখ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিভাবান প্রার্থীর জন্য আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। যে কোনো তথ্যের জন্য recruitment@grameenu.ac ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সমান সুযোগ প্রদানকারী নিয়োগকর্তা এবং নারী, জাতি বা পটভূমি নির্বিশেষে যোগ্য সব প্রার্থীর আবেদনকে উৎসাহিত করে।

উল্লেখ্য, গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইউজিসি থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করে। ইউজিসির এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাথমিক পরিকল্পনা জাতীয় উচ্চশিক্ষার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয়টির সুশাসন ও সুষ্ঠু প্রশাসন চর্চার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে টেকসই সামাজিক সমস্যার সমাধানে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করবে।