০৯ মে ২০২৬, ২০:৫৪

আইইউবিএটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান  © সংগৃহীত

আগামীকাল রবিবার (১০ মে) পালিত হবে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পথিকৃৎ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৪২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন গ্রামে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক মিয়ান ২০১৭ সালের ১০ মে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহণকারী গর্বিত সন্তান এবং মরহুম বীর প্রতীক কর্নেল সফিক উল্যার ছোট ভাই।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা প্রবর্তনের মাধ্যমে অধ্যাপক মিয়ান এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটি।

অধ্যাপক মিয়ানের শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পরিসর ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বর্ণাঢ্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬২ সালে এবং এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৩ সালে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি (১৯৬৮) এবং যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার স্কুল অব বিজনেস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি (১৯৭৬) অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এ শিক্ষকতা করেন এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সেন্টার ফর পপুলেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ (সিপিএমআর)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষক, গবেষক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি নাইজেরিয়ার আহমাদু বেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক মিয়ানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তাঁর জীবন ও কর্মের উপর উন্মুক্ত আলোচনা ও স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজন।

অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান ছিলেন একজন দূরদর্শী শিক্ষাবিদ ও স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার পরিসরে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর অগ্রণী চিন্তা, নেতৃত্ব ও অবদান আজও দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।