যেই পুলিশ একসময় আমাদের দৌড়ানি দিত, এখন তারাই গার্ড দেয়: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, একসময় রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেতে হলেও এখন সেই পুলিশই তাদের নিরাপত্তা দেয়।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এ আয়োজিত ইসিসিটি-২০২৬ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বিগত ২০ বছরের অধিক সময় আমি একজন একাডেমিক। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। বেশিরভাগ সময় রাজপথেই ছিলাম। যেই পুলিশ একসময় আমাদের রাস্তায় দৌড়ানি দিত, এখন তারাই আমাদের গার্ড দেয়।
তিনি বলেন, বনানীতে পারিবারিক অফিস থাকায় আগে থেকেই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তবে সেই পরিচয় ছিল মূলত ট্রাফিক জটের কারণে। যেতে আসতে ট্রাফিকে পড়তে হতো।
বক্তব্যে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা চাই বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে। দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন স্কিলভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এআইয়ের কারণে বহু প্রচলিত চাকরি হারিয়ে যাচ্ছে, আবার নতুন ধরনের কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নতুন বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু ডেলের মতো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবো না, ভবিষ্যতে ডেলের মতো কোম্পানিও তৈরি করবো।
গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, ফুটবল বা ক্রিকেটকে যেমন ভয় পান না, তেমনি অঙ্কেও ভয় পাওয়া যাবে না। আমরা চাই, আগামী পাঁচ বছর পর শিক্ষার্থীরা বলুক—অঙ্কে ভয় পাই না, অঙ্কে মজা পাই। এলক্ষ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে ম্যাথ অলিম্পিয়াড এবং মাধ্যমিক স্তরে সায়েন্স অলিম্পিয়াড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগামীতে বাংলাদেশকে শিক্ষা-বান্ধব, বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষা-বান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এমন শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী দক্ষতাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে।
কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন।