০৬ মে ২০২৬, ১৯:৪৯

ঘুমানোর কথা বলে দরজা বন্ধ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফারিয়া, এরপর না ফেরার দেশে

নিহত জান্নাতুন নাঈম ফারিহা  © সংগৃহীত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে শ্বশুরবাড়ি থেকে জান্নাতুন নাঈম ফারিয়া (২৩) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নগরীর দেশওয়ালিপট্টি এলাকার কাসেম গার্ডেন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে থাকতেন তিনি। 

জানা গেছে, ফারিহা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের (১২তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কানগাঁও এলাকায়। তার বাবার নাম মো. হানিফ মিয়া। প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির মেহেদী হাসানের সাথে ফারিয়ার বিয়ে হয়।    

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে ফারিহা ঘুমানোর কথা বলে নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার দিকে দরজায় কড়া নাড়লেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

তবে এটিকে আত্মহত্যা বলতে নারাজ নিহতের বাবা মো. হানিফ মিয়া। তার দাবি ফারিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেহেদীর সাথে বিয়ের পর টাকার জন্য ফারিয়াকে নানা সময় নির্যাতন করা হয়েছে। মেহেদী বেকার ছেলে। কিছুটা নেশাগ্রস্ত ছিল। ফারিয়া কোচিং করিয়ে, প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা উপার্জন করে মেহেদিকে দিত। আমার মেয়েকে সে অনেক অত্যাচার করেছে। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

ফারিহার মৃত্যুতে সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের বলেন, ‘ফারিহা অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির শিক্ষার্থী ছিলেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

তিনি আরও জানান, নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।