ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনজীবী হলেন ৪০ শিক্ষার্থী—প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য ২১ জনের
কিশোরগঞ্জে অবস্থিত বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগ থেকে ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন শিক্ষার্থী তাদের প্রথম প্রচেষ্টাতেই (ফার্স্ট অ্যাপিয়ারেন্স) আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত আইনজীবী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি ঘোষিত বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে এই বিশাল সাফল্য আসে। এর আগেও এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন।
সদ্য আইনজীবী হিসেবে সনদপ্রাপ্ত ও ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ্ আশিক নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের শিক্ষকদের। তাঁদের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফল হওয়া কঠিন হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান রমা দাশ শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্য সত্যিই অনুপ্রেরণার। আমরা সবসময় চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করতে। আশা করি, আমাদের এই সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এবারের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছেন—ওয়ালী উল্লাহ্ রাব্বানী তৌকি, তানজিদুর রহমান পিয়াস (৫ম ব্যাচ), রিফাত কবীর দীপ্ত, বদরুন্নেসা ভূঞা, ফাতেমাতুজ জোহরা আঁখি (১৭তম ব্যাচ), খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ্ আশিক, এম. মাশরুর ইয়ন, তিতাস, মাইশুরিয়া রহমান ঐশী (১৯তম ব্যাচ), শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, তাসফিক ইসলাম রাহিন (২০তম ব্যাচ), অন্তু সাহা রায়, শরীফুল ইসলাম পামেল, সামিয়া হেলাল জ্যোতি (২২তম ব্যাচ) সহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, এর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন অ্যাডভোকেট আয়শা আক্তার লাকী। কিশোরগঞ্জ তথা হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আইনি পেশায় নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্রে ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।