০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৯

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ২৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত, ডিগ্রি পেলেন ১৮৫৭ শিক্ষার্থী

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ২৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান  © সংগৃহীত

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ২৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ১ হাজার ৮৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া নয় মেধাবী শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় স্বর্ণ পদক।  

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আফতাবনগর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি)- এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন।  

এ সময় ড. মোবাশ্বের মোনেম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জ্ঞান ও দক্ষতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত হয়। দেশের কল্যাণ আত্মিক মুক্তি দেয়। সমকালীন বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাতীয় ও বৈশ্বিক এই অস্থিরতা দূর করে শান্তির ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

প্রকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অস্তিত্ব প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই, ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে যাওয়া প্রকৃতি রক্ষার নৈতিক দায়িত্ব সবাইকে পালন করতে হবে।  

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের জাতি এখন শুধু চাকরিপ্রার্থী খোঁজে না, আমাদের দরকার সমস্যার সমাধান কারি ও নৈতিক পেশাজীবীর। উচ্চ বেতন, পদবি কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সুন্দর প্রোফাইল সফলতার উদাহরণ নয়। তাঁর মতে, সফলতা সেটাই যা সমাজ, জাতি ও বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এবং বার বার ব্যর্থতার হাত ধরেই একসময় সফলতা আসে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে চলার চেষ্টা করেছে। তাই, তিনি আশাবাদী বিগত বছরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা গ্র্যাজুয়েটগণ এখান থেকে যে ধরণের দক্ষতা, নৈতিকতা, মানবিকতার শিক্ষা অর্জন করেছেন; তা দিয়ে আগামীতে একটি বৈষম্যহীন সমতার সমাজ গড়তে অবদান রাখবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান শিক্ষার্থীদের বলেন, ডিগ্রি অর্জনের আত্মতৃপ্তিতে ‘কমফোর্ট জোনে’ বসে থাকলে জড়তা চলে আসবে। তাই, ভবিষ্যৎ রচনা করতে কমফোর্ট জোন’ থেকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ এখন প্রতিযোগিতা শুধু পাশের সহকর্মীর সাথে নয়, বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ মানুষটির সাথেও হতে পারে। সেইসাথে, নৈতিকতা ও মানবিকতা দিয়ে সুনাগরিক হবার আহ্বান জানান তিনি।  

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্টজন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপার্সন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গ্র্যাজুয়েট ও তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। শিক্ষা জীবনের শেষে যথাসময়ে সনদ হাতে পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।