পে-স্কেল বাস্তবায়নের মধ্যেই বেসরকারি চাকরিজীবীদের ন্যূনতম বেতন নিয়ে আলোচনা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের মধ্যেই সরকার বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই রুলসের মধ্যে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ন্যূনতম বেতন, কর্মঘণ্টাসহ অন্যান্য বিষয় নির্ধারিত থাকবে বলে জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি চাকরি বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিধিমালার আওতায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ছুটি, নিয়োগপত্র, বৈষম্য দূর করা, জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ, চাকরির স্থায়িত্বসহ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন সংস্থার মতামত নিতে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মতামত জানাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ১৫ কর্মদিবস সময় দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তাকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কর্মী ছাঁটাই করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বয়স হলে রাখতে চায় না। নারী কর্মীরা যথাযথ মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। অনেক প্রতিষ্ঠান সার্ভিস বেনিফিটও দেয় না। এসব সমস্যা দূর করতেই নতুন রুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
মোস্তফা আরও বলেন, ‘বর্তমান শ্রম আইনসহ অন্যান্য আইনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় নানা বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীরা ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাই সরকার একটি সমন্বিত বিধিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়।’