০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০

উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রধান শিক্ষককে মারধর, বরখাস্ত সহকারী শিক্ষক

মৌলভীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।  © সংগৃহীত

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনেই এক প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছেন তার এক সহকর্মী। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী নাদিমুল হকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষকের নাম মিঞা মোহাম্মদ শহীদুল রহমান। তিনি উপজেলার দামিয়া আধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন একই উপজেলার মিঠারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে দাপ্তরিক কাজে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী নাদিমুল হকের কক্ষে অবস্থান করছিলেন প্রধান শিক্ষক শহীদুল রহমান। এ সময় সেখানে প্রবেশ করেন সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি স্কুলে যাই বা না যাই– তা তুই দেখার কে?’

এরপর তিনি প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এতে শহীদুল রহমান রক্তাক্ত অবস্থায় কক্ষের মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় কক্ষে উপস্থিত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন। তবে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে আহত প্রধান শিক্ষককে দেখতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব হাসান। তিনি এ ধরনের আচরণকে অত্যন্ত দুঃখজনক, অগ্রহণযোগ্য ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি দপ্তরে ঢুকে একজন প্রধান শিক্ষকের ওপর এমন হামলা শিক্ষক সমাজ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রতি আঘাত। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।