০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৩১

ট্যাব পাচ্ছেন প্রাথমিকের ৩ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষক

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের একটি করে ট্যাব প্রদান করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন। অর্থাৎ পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় এই সব শিক্ষক পাবেন একটি করে ট্যাব। 

জানা গেছে, প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হলেও এর বিভিন্ন ব্যয় ও কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে ৪৩৬ কোটি টাকার পরামর্শক প্যাকেজসহ কয়েকটি খাতের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এসব পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুমোদিত এই প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। 

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেওয়া হবে। বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার সব ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরোনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ রয়েছে। তবে প্রকল্পের পরামর্শকসহ কয়েকটি খাতের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পিইডিপি-৫ একটি বড় কর্মসূচি। এর আওতায় একাধিক প্রকল্প ও কার্যক্রম রয়েছে। কর্মসূচিটি পরিকল্পনা কমিশনে আসার পর বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংশোধিত প্রস্তাব পুনরায় জমা দেওয়া হলেও দ্বিতীয় দফা পর্যালোচনায় আরও কিছু বিষয়ে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ৪৩৬ কোটি টাকার পরামর্শক প্যাকেজসহ কয়েকটি অঙ্গের ব্যয় বরাদ্দ নিয়ে আগে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফা পর্যালোচনাতেও এসব বিষয়ে পুনরায় পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব পদ বা কার্যক্রমের ব্যয় রাজস্ব খাত থেকে বহন করা প্রয়োজন, সেগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সমাপ্তির পরবর্তী কার্যক্রম এবং প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

পিইডিপি-৫ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সব পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে ডিপিপি সংশোধন করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ এবং এর মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী পয়লা জুলাই থেকে পাঁচ বছরমেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হওয়ার পর অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।