প্রাথমিকে অর্ধলাখ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দরকার
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পঞ্চাশ হাজার সহকারী শিক্ষক দরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ-পদোন্নতি মামলায় আটকে ছিল। আমরা আপিল করলাম, রায় আমাদের পক্ষে এলো। এরপর আবার মামলা। গত সপ্তাহে এই জট শেষ হলো। আমার ৬৫ হাজার ৫৭৯টি সরকারি স্কুল রয়েছে। এরমধ্যে গত দশ বছর ধরে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নেই। আমি তো ৮ মাসের মন্ত্রী। আমি আমার কাজ করছি। এরমধ্যে বদলি শুরু হয়েছে, আবার ১০ হাজার প্রধান শিক্ষক রিটায়ারমেন্টে গেছেন। সর্বসাকুল্যে আমার ৫০ হাজার প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক দরকার। হেডমাস্টার দরকার ৩৮ হাজার।
তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এখন পিএসসির হাতে। পিএসসি জানিয়েছে, একসাথে এত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, লেটস ট্রাই টু অ্যানাদার ওয়ে। কারণ বিগত সরকার এমন ব্যবস্থা করেছে। এই যে জট। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই যে আপনারা উৎসব ভাতার কথা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে আমরা চলে আসলাম আর উৎসব ভাতা বাড়েনি। আমরা আবার এসেছি ৯ মাস হলো। আপনারা হুঙ্কার দিয়ে বসলেন শতভাগ উৎসব ভাতা ছাড়া ঘরে ফিরবেন না। কোথায় ছিলেন ওই শিক্ষকরা এতোদিন। আমি তো এবারেই আরো ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। বাজেট অ্যালোকেশনের জন্য সেটা পারিনি। আগামী ঈদে যে পাবেন না সেটা আপনি জানলেন কীভাবে। আমরা দিয়ে দেবো আর আপনি দেখাবেন আপনার নেতার ধমকে আমরা দিচ্ছি।
শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক হলেন আইডল। এই সমাজকে গড়তে হলে শিক্ষকদের দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা শিক্ষকদের অনুকরণ করি- তাই না? শুধু যে শিক্ষার্থীরা অনুকরণ করেন বিষয়টি কিন্তু তা নয়। শিক্ষক হলেন আইডল। এই সমাজকে গড়তে হলে শিক্ষকদের দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই। প্রেস ক্লাবের সামনে দাবি নিয়ে বসে আছেন- এটা কি হয়? আমরা কি জানি না শিক্ষকদের কী দাবি রয়েছে?