প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি কবে, যা জানা যাচ্ছে
দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির দীর্ঘ এক যুগের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। ইতোমধ্যে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কার্যক্রম শেষে সহকারী শিক্ষক পদে শূন্যপদের সংখ্যা চূড়ান্ত করে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এক সূত্রে গাঁথা। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকদের একটি বিষয় নিয়ে মামলা ছিল। সেই মামলার জটিলতা এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ‘শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়নসহ আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকদের কিছু পদ শূন্য হয়ে যাবে। এদিকে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে কিছু পদ পূরণ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, পদোন্নতি শেষ হলে আমরা সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের প্রকৃত চিত্র পাব। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর আগে, গত ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর সেই জটিলতা কেটে গেছে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ফলে সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদে নতুন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ১৪ থেকে ১৫ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ধারাবাহিক পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের দাবির বিষয়েও নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। শুধু চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা বেতন স্কেল উন্নয়ন করা হবে না। নিয়মিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসব বিষয় নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন শিক্ষক নীতিমালায় এ বিষয়টি রাখা হচ্ছে।
এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।