শিক্ষকদের মর্যাদা ও সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে কাজ করছে সরকার : ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন, সামাজিক মর্যাদাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে আগামী দিনগুলোতেও এ বিষয়ে কাজ করে যাবে।’
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এমন সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে আমরা এসেছি যেখানে প্রধানমন্ত্রী সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত যে ব্যক্তিত্ব, যারা সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরকে সম্মান দিতে এসেছেন।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার দায়িত্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমরা সাড়ে সাত মাস আগে যখন দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করি, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশ-জাতি গড়ার জন্য। এই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন যদি করতে হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের শিক্ষকগণ।’
তিনি বলেন, ‘বিগত কোন সরকার কবে কী করেছে তা গুরুত্বপূর্ণ না। এই সরকার, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশ্বাস করে যে, শিক্ষকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষকদেরকে সঠিকভাবে তৈরি করা, তাদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা—এটা করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের আমাদের সরকার করতে প্রস্তুত এবং কাজ শুরু করেছি।’
আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী যত বছর আছে, সেই কাজ আমরা করে যাব। যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার মান সঠিক জায়গায় যেয়ে পৌঁছায়।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষক সম্মাননার বিষয়টি সরকারের উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেটার প্রথম একটা পদক্ষেপ আজকে আপনারা দেখেছেন, অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষককে আজকে সম্মান দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, শুধু সম্মাননা দেওয়াই নয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য নতুনভাবে নীতিমালা সাজানোর কাজও চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষার জায়গা থেকে শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য পুরো নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষকদের জন্য তিনি পলিসি তৈরী করেছেন।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে সাড়ে তিন লক্ষের উপরে আমাদের শিক্ষক আছেন। এর বাইরে প্রাইভেট ইনস্টিটিউশনে আরও তিন থেকে চার লক্ষ শিক্ষক আছেন। এসব শিক্ষকের ‘সঠিক অবস্থান, সঠিক মর্যাদা থেকে শুরু করে সামাজিক সম্মান’ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই জায়গা থেকে আমি বলব, আজকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে চাই। উনি আমাদেরকে জানাবেন, উনি উনার স্বপ্নের কথা আমাদেরকে বলবেন। যেটা প্রথম থেকে উনি বলে এসেছেন—উনি বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চান, উনি জাতি কীভাবে তৈরি করতে চান এবং সেই জায়গায় আপনাদের সকলের অবদান কত বড়।’
নিজের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি পার্সোনালি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করি। কারণ আমি নিজে ১৭ বছর শিক্ষক ছিলাম, শিক্ষকতা করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই জায়গা থেকে আমি আমার গর্বের জায়গার কথা বলি, যে আমি অত্যন্ত গর্বিত বোধ করি যে আমি এমন একটা সরকারের অংশ হয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। যে সরকারের প্রধান আসলেই মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো কিছু ভালোভাবে করা সম্ভব না এবং এই শিক্ষা সঠিকভাবে তৈরি করতে হলে সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দিতে হবে আমাদের সকল শিক্ষকদের।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকার ও মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।