গর্ভকালীন পড়াশোনা, নবজাতক রেখে ভাইভা— ভেরিফিকেশনে বাদ অদম্য সুমাইয়াও
গর্ভকালীন সময়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন পিরোজপুরের সুমাইয়া। নবজাতক সন্তানকে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতও হয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে পাননি সুমাইয়া। তার অভিযোগ, পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও সুমাইয়া তা পাননি। এতে হতাশ হয়েছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমাইয়া। তিনি সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে গণিত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সফলতার সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ বিষয়ে সুমাইয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি স্নাতক শেষ করে ঢাকা ফার্মগেট কোচিং করে পড়াশোনা করেছি। আমি অসুস্থ হয়ে বাড়ি এসেও পড়াশোনা চালিয়ে যাই। গর্ভকালীন অবস্থায় পড়াশোনা করি এবং নবজাতক শিশুকে রেখে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা দেই। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা হতাশ। খবরটি শোনার পর পরিবারের সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিল। স্বামী ও শশুর ও ভাইয়ের বিএনপির পদ আছে। শশুর বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপি করে।’
কী কারণে সুমাইয়াকে ভেরিফিকেশনে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি। সুমাইয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। এরপরও ভেরিফিকেশনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সুমাইয়া।