২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২২

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় অপেক্ষা, জেলায় জেলায় যাচ্ছে বিনামূল্যের জামা-জুতা ও ব্যাগ

প্রাথমিকের ছোট্ট সোনামনিদের জন্য জেলাগুলোতে যাচ্ছে বিনামূল্যের জামা-জুতা ও ব্যাগ  © টিডিসি ফটো

ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমের সকাল। দিনের ব্যস্ততা শুরু হয়নি তখনো। এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এসে পৌঁছেছেন বগুড়ার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম। তার জেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বিনামূল্যের জামা, জুতা ও ব্যাগ নিতে এসেছেন। অধিদপ্তরের প্রধান ফটক খোলার পর অভ্যর্থনা টেবিলের পাশের একটি চেয়ারে বসে কখনো হিসাব মিলাচ্ছেন, কখনো তদারকি করছেন সামগ্রী সংগ্রহের কাজ। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলেও সাদা কাগজের ছকে একেকটি হিসাব মিলিয়ে দেখছেন যাতে কোনো কিছু বাদ না পড়ে। ভ্যাপসা গরমও যেন তার ব্যস্ততায় ছেদ ফেলতে পারেনি। বরং মুখে ক্লান্তির চেয়ে আনন্দের ছাপই বেশি।

মো. আব্দুল কাইয়ুম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘তালপাকা গরম। তবুও আনন্দ হচ্ছে। ছোটদের জন্য জামা-জুতা আর ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছি। এগুলো ওরা পেলে কত খুশি হবে তা ভেবেই আনন্দ হচ্ছে!’

নতুন জামা গায়ে, পায়ে নতুন জুতা আর কাঁধে নতুন ব্যাগ নিয়ে ছোট্ট সোনামনিদের স্কুলে যাওয়ার আনন্দটুকু দিতে এসব সামগ্রী বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জেলা পর্যায়ে সামগ্রী পাঠানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর)। এ জন্য বিভাগভিত্তিক সময়সূচিও নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অধিদপ্তর থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলার জন্য বরাদ্দ করা জামা, জুতা ও ব্যাগ ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যের জামা-জুতা ও ব্যাগ সংগ্রহ করা হচ্ছে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার সেট স্কুল ড্রেস, ৬৭ হাজার ৯০০ জোড়া জুতা এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ২১৬টি স্কুলব্যাগ অধিদপ্তরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী এখন ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। সেখান থেকে পরে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ জেলার জন্য বরাদ্দ করা সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। এই দুই বিভাগের জন্য সামগ্রী সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

সেখানে সামগ্রীগুলোর হিসাব মিলিয়ে নিচ্ছেন কেউ, কেউবা বরাদ্দের তালিকা দেখছেন, আবার কেউ ব্যস্ত সামগ্রী বুঝে নেওয়ার কাজে। সামগ্রীগুলো কার্টনবদ্ধ অবস্থায় ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন। এরপর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব জেলার জন্য ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সামগ্রী সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলা এসব সামগ্রী সংগ্রহ করবে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অধিদপ্তর থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

নিজ নিজ জেলার জন্য বরাদ্দ বিনামূল্যের জামা,জুতো ও ব্যাগ নিচ্ছেন কর্মকর্তারা

নিরাপদে সংরক্ষণের নির্দেশ
জেলায় পৌঁছানোর পর এসব সামগ্রী যাতে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সারাদেশের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোতে এসব সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব সামগ্রী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. সাজ্জাদ হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এসব সামগ্রী জেলায় পৌঁছানোর পর যেন নিরাপদে রাখা যায় এবং দ্রুত তা বিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় সেই বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন  শিক্ষা কর্মকর্তারা।’

নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সারাদেশের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোতে ভালোভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তবুও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিকল্প উপায়ে যতটা ভালোভাবে পারা যায় এগুলো সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছেন।’

সারাদেশে সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে এসব জামা, জুতা ও স্কুলব্যাগ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হবে।

এদিকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । পরেই এই আনন্দময় অপেক্ষার পালা শেষ হবে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের।