প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ফেনীর ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়, দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সহকারীরা
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬২টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশই চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে। জনবল সংকটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১০২ বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪৩টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৯টিতে চলতি দায়িত্ব এবং ৪০টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। অর্থাৎ উপজেলার ৬০ দশমিক ১৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ৬১১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৬৮ জন। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদেরই দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রেণীকক্ষের পাঠদানে। চারটি ক্লাস্টারের জন্য চারজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন।
আরও পড়ুন: একাদশে ভর্তিতে আবেদন প্রায় ১০ লাখ, ফল ১৬ সেপ্টেম্বর
এছাড়া দাপ্তরিক কাজের জন্য হিসাব সহকারী পদে একজন ও দুইজন অফিস সহকারী পদ থাকলেও সেখানে একজন। উচ্চমান সহকারীর পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। এমনকি নেই কোনো অফিস সহায়কও। একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার দিয়ে ১০২টি বিদ্যালয় তদারকি করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরজমিনে উপজেলার উত্তর করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আজগর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, উপজেলায় ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখাশোনা করার জন্য ৪টি ক্লাস্টারে মোট ৪ জন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ থাকলেও গত এক বছর ধরে আমি একজনই সকল ক্লাস্টার দেখাশোনা করে থাকি। এতে আমার জন্য দৈনন্দিন দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দেয়া খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সরকার নিয়োগ দিলেই শূন্যপদ পূরণ হবে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। তখন এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।