১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৯

শিক্ষকদের পে স্কেল-বদলি নতুন নীতিমালার মাধ্যমে হবে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ  © সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে শিক্ষকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলে পরিবর্তনের পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রেও আনা হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। নতুন নিয়মে কেবল চাকরির বয়সের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের (মূল্যায়ন) মাধ্যমেই শিক্ষকরা পদোন্নতির সুযোগ পাবেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত “বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা” শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তিনি জানান,‘ দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় স্থগিত থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনারায় শুরু হতে যাচ্ছে। উচ্চ আদালতের মামলার রায় ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষে আসায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩২ হাজারেরও বেশি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক নিয়োগ প্রক্রিয়া হওয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও ইতোমধ্যে কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক পদেও বিশাল নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নতুন ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষকের বহু পদ খালি হবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে আরও ১৪ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সহকারী শিক্ষক পরীক্ষার চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, রায় মিললেই ৬ হাজারের বেশি পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতি বছরই গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।’

শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়াতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্রাইমারি এডুকেশন (নেপ) ইতোমধ্যে একটি নতুন প্রশিক্ষণ নীতিমালার কাজ শুরু করেছে। এতদিন প্রাথমিক শিক্ষকদের বেসিক ট্রেনিং (বিটিপিটি) পিটিআই সেন্টারগুলোতে টানা ১০ মাস ধরে ইন-ক্যাম্পাস পদ্ধতিতে চলত। নতুন নীতিমালায় এটিকে বদলে প্রথমে ২ মাসের ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে 'অন দ্য জব' ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’