২৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০৭

১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগদান কখন-কীভাবে নিয়ে ফের বিভ্রান্তি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রাথমিক ডিজির সাথে সাক্ষাৎ শেষে নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল  © সংগৃহীত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নিয়োগপ্রত্যাশী। এই ধোঁয়াশা কাটাতে নিয়োগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন দাবি করেছেন তারা। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে এটি না পেলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা 

সোমবার (২৭ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন। 

নিয়োগপ্রত্যাশীরা বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) সিলেট পিটিআইয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে পূর্ববর্তী নীতিমালা অনুযায়ী আগে পদায়ন এবং পরে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। নিয়োগ-সংক্রান্ত সার্বিক দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এবং অধিদপ্তর তাদের প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

দেবব্রত সরকার নামে এক নিয়োগপ্রত্যাশী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দুই মাসের ট্রেনিং শেষে পদায়ন করা হবে। তার এই দুই বক্তব্যের মাঝে অসামঞ্জস্যতা থাকায় আমাদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমরা এটির বিষয়ে জানতে আজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির সাথে দেখা করেছি। উনি জানিয়েছেন, আগামী ২৯ জুলাই তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে নিয়োগের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের যোগদান-পদায়ন কবে কীভাবে— ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত সময়সূচি না পেলে আমরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হব। নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব। এবার আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে আমরা বিশ্বাসী না। ২৯ জুলাই আমাদের যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের সুনিদিষ্ট তারিখসহ লিখিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না করা হয়, তাহলে আমরা আর ঘরে বসে থাকব না। 

এই নিয়োগপ্রত্যাশী আরও বলেন, আমরা সারাদেশের ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব এবং রাজপথে নেমে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা রাজপথে থাকতে চাই না। আমাদের হাতে প্ল্যাকার্ড নয়, শিক্ষার্থীদের খাতা-কলম থাকার কথা কিন্তু যদি রাষ্ট্র আমাদের বাধ্য করে, তাহলে রাজপথই হবে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়। 

তিনি আরও বলেন, আমরা আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দায়িত্বশীল মহল থেকেই বলা হয়েছিল—শিক্ষকদের কখনোই রাজপথে নামতে হবে না। কিন্তু যদি আমাদের রাজপথে নামতেই হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

এদিকে গতকাল প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সিলেট পিটিআইয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, চাকরিতে প্রবেশের শুরুতেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য আগামী আগস্টে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হবে। 

সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নতুন নীতিমালায় আসবে কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হলো তাদের নিয়োগকর্তা। তো অধিদপ্তর এখন যে নীতিমালায় কাজ করছে, লিগ্যালি কি সে নীতিমালা বাইরে যেতে পারে? যদি না পারে তাহলে যে নীতিমালায় কাজ করছে সেই নীতিমালায় কাজ হবে। আর নতুন নীতিমালার কাজ আমরা করছি, সেটা আগামীতে কার্যকর হবে। সেই আঙ্গিকে এখন পরিচালিত হচ্ছে সবকিছু। 

নিয়োগপ্রত্যাশীদের দাবি, বর্তমান নীতিমালায় আগে যোগদান, এরপর পদায়ন ও প্রশিক্ষণের বিধান রয়েছে। তাই তাদের ক্ষেত্রেও সেই নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। 

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী নির্বাচিত হন। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।

পরবর্তীতে গত ৩ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদন ও  দুই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ সন্তোষজনক থাকা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দুই বছর পর তাদের চাকরিতে স্থায়ীকরণ করা হবে।