প্রাথমিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী-নৈশপ্রহরী নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী
আগামী বছরের মধ্যে সরকার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রবিবার (২৬ জুলাই) সিলেট পিটিআইয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সিলেট আয়োজিত 'বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা' শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো প্রতিটি বিদ্যালয়কে শতভাগ কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কোনো বিদ্যালয় কেন অকার্যকর, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অন্য যেকোনো কারণ সবকিছুর বাস্তব তথ্য মাঠপর্যায় থেকেই জানতে হবে। বাস্তব চিত্র গোপন না করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে এর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক যোগাযোগও একজন শিক্ষা কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন,মিড ডে মিল এবং উন্নয়ন কাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শন মানেই শুধু প্রশাসনিক তদারকি নয়; প্রতিটি পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কতটুকু শিখছে তা যাচাই করা। এজন্য বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ‘লার্নিং অডিট’ পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিমন্ত্রী নিজে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা শুনেছেন, সমাধানের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ফলভিত্তিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতার একটি নতুন কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সিলেট বিভাগের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং ইউপিইটিসি ইন্সট্রাক্টররা উপস্থিত ছিলেন।