সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এক শিফটে আনা হবে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এক শিফটের বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার বিদ্যালয় এক শিফটে চলছে। বাকি বিদ্যালয়গুলো কীভাবে দ্রুত এক শিফটে আনা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
আজ সোমবার (২২ জুন) ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) মাল্টিপারপাস হলে আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নীতিমালা শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিকে কোনো অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৮ সালের কারিকুলাম বাস্তবায়নের সময় আমাদের লক্ষ্য থাকবে—কোনো অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক যেন প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে না থাকেন। শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়, বেসরকারি বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কিন্ডারগার্টেন—সব ক্ষেত্রেই আমরা এ নীতি প্রয়োগ করতে চাই। কারণ বর্তমানে লাখ লাখ শিক্ষক আছেন, যাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাননি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রচলিত ১০ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে সাত লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিভিন্ন স্তরে কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ন্যাপ ইতোমধ্যে কাজ করছে। তারা কিছু প্রাথমিক প্রতিবেদনও দিয়েছে। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে শূন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক থাকবেন না। কী ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, সেটাও আমরা নির্ধারণ করব। এ কাজ আমরা একা করছি না। সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক পরামর্শক প্যানেল গঠন করা হয়েছে। যাতে সবার মতামত নিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা করা যায়, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং কার্যকর হয়।
৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে প্লেগ্রাউন্ড উন্নয়ন করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর জন্যও ন্যূনতম প্লেগ্রাউন্ড মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। সেই মানদণ্ড পূরণ না করলে তারা স্কুল পরিচালনার অনুমোদন পাবে না। অর্থাৎ আমরা পুরো ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে চাই।