শেষ হচ্ছে অপেক্ষার পালা, প্রাথমিক বৃত্তির ফল নিয়ে সুখবর দিল অধিদপ্তর
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় নিয়ে সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে সুখবর দিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। চলতি মাসের শেষ দিকেই এই ফল প্রকাশ করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস লাইভ সার্ভারে ফল দেখার লিংকও উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ সোমবার (২২ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
অধিদপ্তরের তথ্য-ব্যবস্থাপনা-বিভাগের সিস্টেম এনালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ফল প্রস্তুতের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রেজাল্ট প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে, শুধু সামান্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ বাকি আছে। আগামী তিন দিনের মধ্যেই ফল প্রশাসন বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর প্রশাসন বিভাগ ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করবে।
পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ. এস. এম. সিরাজুদ্দোহা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফল প্রকাশে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তথ্য বিভাগ থেকে ফল হাতে পেলেই একটি মিটিং করে এক দিন পর তা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। আমরা আশা করছি চলতি মাসের শেষের দিকেই ফল প্রকাশ করা যাবে।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে নিরাশ হয়ে ফিরলেন আদ্-দ্বীনের বিদেশি শিক্ষার্থীরা, বসতে রাজি নয় কেউ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ও বৃত্তি বণ্টন নীতিমালা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন, দেশে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। মেধাবৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২৭ হাজার ৫০০ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ হাজার ৫০০টি বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ হাজার ২৫০টি বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরও এককালীন ২২৫ টাকা দেওয়া হবে এবং তারা মাসিক ২২৫ টাকা করে ভাতা পাবে। আগামী বছর এই বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নীতিমালা অনুযায়ী, বৃত্তি দেওয়া হবে দুটি ক্যাটাগরিতে— ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ’। উভয় ক্যাটাগরিতেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য কোটা সংরক্ষিত থাকবে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানাভিত্তিক মেধাক্রম অনুসরণ করা হবে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের ৬১ জেলায় গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা শেষ হয়। এছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তথা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।