১৯ জুন ২০২৬, ১৫:৫৪

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্ক করল মন্ত্রণালয় 

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ কঠোরভাবে অনুসরণ করা সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (যেমন- ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) এমন কিছু পোস্ট, শেয়ার ও মন্তব্য করছেন, যা এই নির্দেশিকার পরিপন্থী। এসব আপত্তিকর পোস্টের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর কিংবা কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বা আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া এবং অন্য কারও এমন পোস্টে লাইক-শেয়ার বা মন্তব্য করাও সরকারি চাকরির আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে চাকরিচ্যুতিসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য, অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় মামলা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই (PTI) সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান কঠোর আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আইনি নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি এই নির্দেশনার মাধ্যমে আবারও মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো।