প্রাথমিকের গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল ২০ জুন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’। এই খেলার ফাইনাল আগামী ২০ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। জমকালো এই সমাপনী ও ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নান্দনিক বিকাশের লক্ষ্যে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এটি খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত চেতনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার জন্য নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ শিক্ষাবান্ধব দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যমতে, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। বিশাল এই শিক্ষার্থী ও শিক্ষা পরিবারের অংশগ্রহণে এ আয়োজন এখন এক উৎসবমুখর মহামিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
ড. মিলন জানান, টুর্নামেন্টটি ইউনিয়ন/পৌরসভা, উপজেলা/থানা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়—এই পাঁচটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া পেরিয়ে দেশের ৮টি বিভাগের চ্যাম্পিয়ন বালক ও বালিকা দল জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
চলতি (জুন) মাসের ৪ তারিখ জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. সাখাওয়াত হোসেন। জাতীয় পর্যায়ে মোট ১৬টি (৮টি বালক ও ৮টি বালিকা) দল অংশ নেয়। এরই মধ্যে প্রথম রাউন্ড, সেমিফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের টুর্নামেন্টে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৩৪২টি বালক দল এবং ৬৫ হাজার ৩২১টি বালিকা দল অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৪ হাজার ৯০৫টি, জেলা পর্যায়ে ৫১৬টি এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৬৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বালক ও বালিকা মিলিয়ে এ বছর মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অংশগ্রহণ করছে, যা দেশের নারী-পুরুষ সমতা এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।