৩১ মে ২০২৬, ১৫:৫২

৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লিনার নিয়োগের চিন্তা সরকারের

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ  © টিডিসি সম্পাদিত

দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) না থাকায় বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কাজে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত হতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোতে ক্লিনার নিয়োগের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এই ভাবনার কথা জানান। যদিও পুরো বিষয়টি আসন্ন বাজেটের ওপর বিবেচনাধীন বলে উঠে আসে প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিকের ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে কোনো ক্লিনার নেই, এর ফলে বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শিক্ষকদেরকেই করতে হয়। ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, আসন্ন বাজেটে ক্লিনার নিয়োগের বিষয়গুলো রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সেফটি-সিকিউরিটির জন্য এগুলো জরুরি। বিষয়গুলো অনুধাবন করে বিষয়গুলো অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শুধু নতুন পদ সৃষ্টিই নয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের বিষয়টিকে একটি স্থায়ী ও কার্যকর কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন বা বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ভাষায়, বিষয়গুলো নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসা যায় কিনা সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে।  

এর আগে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লিনার নিয়োগের আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা। গত ১১ মে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত শত শত, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আসা-যাওয়া করে থাকেন। শিশু শিক্ষার্থীরা কাগজ, খাবারের খোসা ঝুড়িতে ফেললেও ধুলাবালিতে পরিপূর্ণ থাকে পুরো বিদ্যালয়। অথচ স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় একাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে।

তারা আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজস্ব উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে থাকেন। এতে জনগণের কাছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে থাকেন। সোমবার (১১ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পত্র জারি করা হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগদানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ক্লিনার বা অফিস সহকারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু মূসা জানান, এমনিতেই কাজের ব্যস্ততা ও চাপে মানসম্মত ও প্রত্যাশিত পাঠদান অনেকটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর ওপর যদি ক্লিনিংয়ের মত কাজ করতে হয়, তবে বিষয়টি সত্যিই কষ্টকর। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষককে যাবতীয় লেখালেখির কাজে সহায়তার জন্য একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ করলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ অকারণে কাজের চাপ থেকে রেহায় পাবেন। ফলে শ্রেণি পাঠদানে হতে পারেন শতভাগ স্বতঃস্ফূর্ত।

অফিস সহকারী নিয়োগের দাবি জানিয়ে আরেক বলেন, অফিস সহকারী না থাকার কারণে আমাদের যাবতীয় কাজ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে শিক্ষকদের ভেতরে সৃষ্টি হচ্ছে চাপা ক্ষোভের।

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ক্লিনার বা অফিস সহকারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। সে সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছিলেন,  বিদ্যালয়গুলোতে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। সে সময় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অফিস সহকারী নিয়োগের বিষয়টি দেখবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।