১৪ মে ২০২৬, ২০:২০

বেতন ৮ হাজার— ডিউটি ১২-১৬ ঘণ্টা, বছরে ৩৬৫ দিন

নৈশ প্রহরী: প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

মাত্র ৮ হাজার ২৫০ টাকা বেতনে চাকরি করেন একজন নৈশ প্রহরী বা দারোয়ান। সরকারি চাকরির হিসেবে যা ২০তম গ্রেডের চাকরি। অর্থাৎ দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল এটাই। সাধারণত এই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বেতনের বাইরেও মাসিক ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাসা ভাড়া বাবদ পান। সবমিলিয়ে ১০ হাজার ৭৫০ টাকা বেতনে চাকরি করা এই প্রহরীদের অধিকাংশই সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা বাৎসরিক কোনো ছুটি পান না। যার ফলে তাদের ডিউটি পালন করতে হয় বছরের ৩৬৫ দিনই। নির্ধারিত ছুটি ও কর্মঘণ্টা না থাকায় সাংসারিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নৈশ প্রহরীরা। 

এমনটাই দাবি এমপিওভুক্ত নৈশ প্রহরী কল্যাণ পরিষদের। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব বরাবর এই সংগঠনের পক্ষ থেকে নৈশপ্রহরীদের ছুটি ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণের আবেদন করা হয়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও একই আবেদন করেন তারা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর তাদের সেই আবেদনের কার্যকারিতাও হারিয়ে যায়। 

আবেদনপত্রে তারা উল্লেখ করেন, আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈশ প্রহরীগণ দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে দৈনিক ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা এবং বছরে ৩৬৫ দিন এই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে পালন করে আসছি। আমাদের চাকরিকালীন কোনো সাপ্তাহিক বা মাসিক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ছুটি ও কর্মঘণ্টা নেই। আর তাই আমরা সাংসারিকভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এমনকি শারীরিক ও মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ অবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈশ প্রহরীদের বাৎসরিক ছুটি এবং কর্ম ঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানান তারা। 

এমপিওভুক্ত নৈশ প্রহরী কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতালিব হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ছুটি নির্ধারণের। কিন্তু পরে সরকার পরিবর্তনের পর সেটা আর হয়নি। তাই আমরা ঈদের আগে আবার আবেদন করবো।’

মোতালিব হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরি নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই খালি হাতে নিতে পারে না। তাই কষ্ট হলেও চাকরি ছাড়ে না। তবে বাস্তবতা হলো, আমাদের কোনো সাপ্তাহিক বা মাসিক ছুটি না থাকায় মানুষ মেয়েও বিয়ে দিতে চায় না। ঈদেও ছুটি পাই না আমরা। অথচ শ্রম আইন সবার জন্য সমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ছুটির দিনগুলোতে আমাদের উলটো বেশি ডিউটি করতে হয়। এমনকি ছুটি না দিলে আমাদের ওভার টাইম হিসেবে ভাতা দেওয়া উচিত, সেটাও পাই না আমরা। আমরা বলেছি, আমাদের যদি সরকারিভাবে কোনো ছুটি না থাকে, তাহলে আমাদের সেটার প্রজ্ঞাপন দেখানো হোক, কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা সেটা দেখান না। সামনে ঈদ, আমরা জানি না আদৌ কোনো ছুটি পাবো কি-না আমরা। মানবিক দৃষ্টিতে আমাদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।’

এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মাইনুদ্দিন সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।