শেখ মুজিবের শাসনে যুবতী মা-বোনদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হতো
শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে যুবতী নারীদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হতো এবং রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, শেখ মুজিবের শাসনামলে জুলুম-নির্যাতন চরমে পৌঁছেছিল এবং দেশ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছিল।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল তিনটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে হারুনুর রশীদ বলেন, পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে শেখ মুজিব যত দিন জীবিত থাকবেন, তত দিন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে জুলুম-নির্যাতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে যুবতী মা-বোনদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হতো। রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকত। সোনার বাংলা দুর্ভিক্ষে পরিণত হয়েছিল।
১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, তাঁর মৃত্যুর সময় দেশের কোথাও ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়া হয়নি, জানাজা কিংবা গায়েবানা জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে জানাজা পড়ানো হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হারুনুর রশীদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা ও শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে দেশ পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু ভারতীয় উপনিবেশবাদ, আগ্রাসন এবং ষড়যন্ত্রের কারণে দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সেনাবাহিনীতেও অস্থিরতা দেখা দেয়। অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান, সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা এবং ক্যান্টনমেন্টে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর ট্যাংক ও কামান নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ক্যান্টনমেন্ট থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। দেশের যেসব মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ চেয়েছিলেন, তাঁরা সেদিন তাঁদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।
জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে হারুনুর রশীদ বলেন, সেদিন বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে ট্যাংকের ওপর তুলে সিপাহি-জনতা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, নেতৃত্ব এমনি এমনি সৃষ্টি হয় না, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।
স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাড়ে সাত কোটি বাঙালির পক্ষে সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা কেউ দেননি, জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান সাহসী নেতৃত্ব নিয়ে এগিয়ে না এলে বাংলাদেশ নামে দেশটি থাকত কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেদিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জিয়াউর রহমান দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন।
জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তাবিউল ইসলাম তারিফসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।