০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৪১

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণসংহতি আন্দোলনের দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিসংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে গণসংহতি আন্দোলন  © সংগৃহীত

রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, আলোচনা সভা, সমাবেশ, কর্মশালা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিসংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

এ সময় তিনি বলেন, গণসংহতি আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষে মানুষে বৈষম্য কমবে এবং শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

আবুল হাসান রুবেল বলেন, দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনকারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হলেও জনগণের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আনার মতো বড় কোনো অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তাই সরকারের ভেতরে ও বাইরে থেকে জনগণের স্বার্থে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনে গণসংহতি আন্দোলন পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পুরোনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলটির সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। জনগণের লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় গণসংহতি আন্দোলন।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, ১৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা এবং ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সমাবেশ। এ ছাড়া দেশব্যাপী সমাবেশ ও আলোচনা সভা, জেলা পর্যায়ে কর্মশালা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী ১১ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন ও কর্মসূচি উদ্বোধনে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাচ্চু ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মনিরুল হুদা বাবনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।