‘ব্যক্তিত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্যে নারাজ সাদিক, রাশেদ বললেন, আ.লীগ ফিরলে আবার ছাত্রলীগ হবে সাদিক
গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খাঁনকে ‘ব্যক্তিত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে তার বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েমকে নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে সাদিক কায়েম আবারও ছাত্রলীগে যোগ দেবেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকরা রাশেদ খাঁনকে নিয়ে প্রশ্ন করলে সাদিক কায়েম বলেন, ‘ব্যক্তিত্বহীন মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
এর জবাবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আওয়ামী জামানায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে গুপ্ত, বর্তমান জামায়াত নেতা সাদিক কায়েম লিখেছে, বিএনপি সরকার শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করেছে। তৌফিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে এবং সরকারকে শ্রমিক হত্যার দায় নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। শ্রমিক মারার সরকার, আর নয় দরকার।’
পোস্টে রাশেদ খাঁন সাদিক কায়েমের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি সরকার শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করেছে—এমন কোনো প্রমাণ তার কাছে আছে কি না। প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করছেন না কেন? নাকি ছাত্রলীগের প্রতি তার যৌবনের প্রথম প্রেম আজও রয়ে গেছে? সে কি অন্ধ, দেখে নাই, প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সমস্ত গণমাধ্যমে নিউজ হয়েছে যে, হামলা-ভাঙচুরের ভিডিও করায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে। তবুও সে শ্রমিক হত্যার দায়ে বিএনপি সরকারের পদত্যাগ চায়!’
সাদিক কায়েমকে উদ্দেশ করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরলে তার মতো ব্যক্তিরা আবার ছাত্রলীগে যুক্ত হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় সাদিক কায়েম ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সাদ্দামের নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টের শেষে রাশেদ খাঁন বলেন, শ্রমিক হত্যার দায় বিএনপি সরকারের ওপর চাপিয়ে শ্রমিক পরিচয় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের তাণ্ডবকে আরও বেগবান করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। সরকার সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে সক্ষম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হতাশ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।