সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী
সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে এবং সংবিধান সংশোধন ছাড়াই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিকে ‘গায়ের জোর’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে কিছু সাধারণ আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন জড়িত। তা না মেনে যা বলা হবে সেটাই বাস্তবায়নের দাবি কোনো আইনি পথ হতে পারে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদা স্মরণে এ সভার আয়োজন করে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এবং আরও অনেক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে। এগুলো নিয়ে টেবিলে বসে, আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। কোনো কথা না শুনে যা বলা হবে সেটাই মানতে হবে—এই রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধান সংস্কারের কথা বলতে গেলে তার একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো থাকতে হবে। সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব।
দেশের চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি চলছে। এই বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশে যে প্রভাব পড়ছে, তার দায় বিরোধী দল সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি ও তারেক রহমান বিকল্প উপায়ে মালেয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে জ্বালানি ও গ্যাস এনে দেশের কলকারখানা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা সচল রাখার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকার নিরলস কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে, যা দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমাবে। দেশীয় অর্থনৈতিক দৈন্য দূর করা এবং টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে জাপান ও চীনে কূটনৈতিক সফর ও চুক্তি সফল করা হচ্ছে।
স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শামসুল হুদা ভাই ছিলেন প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত ও বিনয়ী এক রাজনীতিক। কোনোদিন কারো সঙ্গে কটু কথা বলেননি বা সংঘর্ষে জড়াননি। অভিভাবকের মতো এসে তিনি সবাইকে স্নেহ করতেন। আজকে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন বাড়ছে, তখন তার মতো অভিভাবকতুল্য নীতি-আদর্শে অটল নেতার অভাব আমরা তীব্রভাবে অনুভব করি।
মুগদা থানা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি।
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী চায়না, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।