২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২

হত্যার শিকার ছাত্রদল নেতার জানাজায় অভিযুক্ত যুবদল নেতার এমপি বাবা, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান নেতাকর্মীদের

সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা  © টিডিসি সম্পাদিত

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের জানাজার আগে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ সময় উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীরা তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বক্তব্য বন্ধ করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজার আগে এ ঘটনা ঘটে।

জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তিনি বক্তব্য বন্ধ করেন।

পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে শাকিলের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। তবে এ ঘোষণার পরও উত্তেজনা দেখা দিলে হুইপ দুলু মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানাজা শেষে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে চাঁচকৈড় বাজারের সুপারিহাট রোডে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের রাশ আরবানী মেগা শপিং মলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন হামলাকারীরা। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এতে শাকিলের হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।