২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩২

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা, সংস্কার নিয়ে আস্থার সংকট

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা, সংস্কার নিয়ে আস্থার সংকট  © এআই সম্পাদিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তি তৈরি করেছিল, এক বছর পর সেই ঐকমত্যই পড়েছে কঠিন পরীক্ষায়। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের পর গণভোটেও সংস্কারের পক্ষে রায় এসেছে। কিন্তু সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা এবং সংসদের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরোধ কাটেনি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ বাস্তবায়নের বদলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মোটাদাগে ঐকমত্য থাকলেও কীভাবে, কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এবং কতটা সংস্কার হবে-সেই প্রশ্নেই বিরোধের মূল। ক্ষমতাসীন বিএনপি বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ; তবে সাংবিধানিক পরিবর্তন করতে হবে বিদ্যমান সংসদীয় ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী পক্ষের একটি অংশের দাবি, গণভোটে জনগণের অনুমোদন পাওয়া সংস্কারকে কেবল সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ছেড়ে দিলে সনদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তিনটি অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা, গণভোটের রায় উপেক্ষা এবং সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সংসদের ভেতরে ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন।

স্রেফ সবাইকে খুশি করার জন্য না; হোয়াট উই হ্যাভ গিভেন অ্যাজ প্রমিসেস, জনগণকে যে ওয়াদা আমরা দিয়েছি এবং যেটা ম্যান্ডেটরি। সেটা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। বরং সেটা বাস্তবায়ন না করলে মানুষ আমাদের প্রশ্ন করবে-ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি

‘সরকার গায়ের জোরে অবজ্ঞা করার চেষ্টা’ অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদ ও এর বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু নির্বাচনে বিজয় লাভের পর তারা (সরকারি দল) সেই মীমাংসিত বিষয়টিকে একধরনের গায়ের জোরে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের জনগণ এগুলো দেখছে।’ 

রকারের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে নাহিদ বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার হতে হবে গণভোটের রায় অনুযায়ী’। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের বিপ্লব ছিল কর্তৃত্ববাদ প্রত্যাখ্যানের এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাদেশের মানুষ লোক-দেখানো সংস্কার নয়, কাঠামোগত পরিবর্তন চেয়েছিল।’

তবে, বিরোধী দলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হ্যাঁ, বিএনপির নিজস্ব ইলেক্টোরাল কমিটমেন্ট আছে এবং বিএনপি সেটা এক্সিকিউট করবে। তার মধ্যে যেমন আমাদের ৩১ দফায় অনেকগুলো ধারা আছে-প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য, সংসদে উচ্চকক্ষ (Upper House) ক্রিয়েট করা, ওমবাডসম্যান (ন্যায়পাল) ক্রিয়েট করা, এগুলো আমাদের ফেজের মধ্যে আছে। আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রাইম মিনিস্টার বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার এই যে বেসিক চেঞ্জেস, আমরা আশা করছি আগামী শীতকালীন অধিবেশনে (উইন্টার সেশন) বেশ কিছু বড় মাপের সংবিধান সংশোধনী আনতে পারব।

তিনি বলেন, এবং এটা করতে গিয়ে সংবিধানের মৌলিক ক্যারেক্টারের সঙ্গে যায় এমন বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়েও আমাদের ভাবনা আছে। যেমন বর্তমান সরকার তো নিম্নকক্ষ (বর্তমান পার্লামেন্ট) থেকে নির্বাচিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যখন ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, তখন রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন? শুধু কি নিম্নকক্ষের ৩০০ জনের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, নাকি উচ্চকক্ষের ১০০ জন এবং নিম্নকক্ষের ৩০০ জন;এই মোট ৪০০ জনের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন? তাহলে এটা একটা বড় মাপের পরিবর্তন, তাই না? এটার জন্য বেশ কিছু সাংবিধানিক ধারণা সন্নিবেশ করতে হবে। আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারি, তাহলে তো জানুয়ারিতেই তা কার্যকর হতে পারে। সুতরাং স্রেফ সবাইকে খুশি করার জন্য না; হোয়াট উই হ্যাভ গিভেন অ্যাজ প্রমিসেস, জনগণকে যে ওয়াদা আমরা দিয়েছি এবং যেটা ম্যান্ডেটরি। সেটা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। বরং সেটা বাস্তবায়ন না করলে মানুষ আমাদের প্রশ্ন করবে।

সংস্কারের প্রশ্নে পুরোনো বিরোধ নতুন রূপে
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সম্মিলিত রাজনৈতিক দলিল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনা, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

সনদের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। কিন্তু সনদে স্বাক্ষর করলেও সব প্রস্তাবে সব দলের সম্মতি ছিল না। কয়েকটি বিষয়ে দলগুলো ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। সেই মতপার্থক্যই এখন বাস্তবায়নের প্রশ্নে বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, সেখানে আসন বণ্টনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে সনদে স্বাক্ষর করাকে সব প্রস্তাবের বিষয়ে নিঃশর্ত ঐকমত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আইনি বিতর্ক
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই সনদের সাংবিধানিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভূমিকা ও বৈধতা। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ইতিবাচক ফল এলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা আলাদা পরিষদের শপথ নেননি। দলটির যুক্তি, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

বিএনপি বরং সংসদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে। বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক সমঝোতার তাৎপর্য ক্ষুন্ন হতে পারে। এই বিরোধ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কারের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও।

এখানে সাংবিধানিক প্রশ্নটির পাশাপাশি রাজনৈতিক আস্থার সংকটও গুরুত্বপূর্ণ। এক পক্ষ যেখানে বিদ্যমান সংবিধানের ধারাবাহিকতাকে বৈধতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ সেখানে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা ও গণভোটের রায়কে সংস্কারের অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে।

গণভোটের রায় বনাম সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় আসার পর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়েছিল। কিন্তু গণভোটের ফল কীভাবে আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোয় রূপ পাবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। গণভোটে সমর্থন পাওয়া এবং প্রতিটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি-দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই। আবার আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন তুলে গণভোটের রাজনৈতিক তাৎপর্য উপেক্ষা করাও নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে: একদিকে সংবিধানের বিধান অনুসরণ করে সংস্কার বাস্তবায়ন, অন্যদিকে জনগণের দেওয়া রায় ও দলগুলোর পূর্বসম্মত অঙ্গীকারের প্রতি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা। এই দুইয়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমন্বয় না হলে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে।

আস্থার সংকট বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ
সংস্কার প্রশ্নে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। ক্ষমতাসীন দল মনে করছে, নির্বাচিত সংসদের বাইরে পৃথক সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করলে ভবিষ্যতে নতুন আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিরোধী পক্ষের উদ্বেগ, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হলে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যই দুর্বল হয়ে পড়বে।

এই অবিশ্বাসের প্রভাব সংসদের বাইরেও পড়ছে। সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতা না হলে বিরোধী দলগুলো রাজপথের আন্দোলনকে চাপ তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে সরকার সংস্কারকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সীমিত রাখতে চাইলে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা-তিন ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হতে পারে।

সমঝোতার বিকল্প নেই
জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে তার ওপর। প্রথমত, যেসব বিষয়ে সব দলের ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, যেসব প্রস্তাবে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির আলোচনায় বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তৃতীয়ত, সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিরোধ নিরসনে নিরপেক্ষ আইনজ্ঞদের মতামত এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সনদ বাস্তবায়নের সময়সীমা, অগ্রগতি এবং প্রতিটি প্রস্তাবের আইনি পথ সম্পর্কে জনসমক্ষে স্পষ্ট ধারণা দেওয়াও প্রয়োজন। কারণ, সংস্কারের নামে অনির্দিষ্টকাল আলোচনা চলতে থাকলে জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মধ্যে দূরত্ব বাড়বে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল, তার স্থায়ী রূপ দিতে হলে কেবল সনদে স্বাক্ষর বা গণভোটে সমর্থন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি পারস্পরিক অবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে সমঝোতার পথ খুঁজতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জুলাই সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক দলিল হয়েই থেকে যেতে পারে-বাস্তব পরিবর্তনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারবে না।