মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে জামায়াত নেতাদের বাধা, স্যোশাল মিডিয়ায় পর্যন্ত টু শব্দ নেই এনসিপির
বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের শিকার হলেও এনসিপি নেতারা কোনো প্রতিবাদ না করায় দলটির কড়া সমালোচনা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘মাদ্রাসায় এতো এতো শিশু বিকৃত যৌনলালসার শিকার হচ্ছেন, এ ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের মুখে কোনো রা নেই!’
তিনি বলেন, ‘১৭ ঘণ্টা পরে তার বৃদ্ধা বোন আর মেয়ে রাতের আঁধারে মোবাইলের আলোতে প্লেট দিয়ে মাটি খুঁড়ে তাকে দাফন করেছে! এমন অমানবিক ঘটনার পরে এনসিপি সাংগঠনিকভাবে একেবারে নির্বিকার, নির্লিপ্ত ছিল। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি তো দূরে থাক; কোনো একজন নেতা সোশাল মিডিয়ায় পর্যন্ত একটা টু শব্দ করে নেই। মৃত ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেন এ ছাত্রনেতা। তার ভাষ্য, ‘জ্বি, এটাই হচ্ছে জামায়াত পরিচালনাধীন এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর অধিকার রক্ষায় অঙ্গিকারবদ্ধ এবং সর্বোপরি নতুন বন্দোবস্তের নমুনা।’
আব্দুল কাদের বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের ধ্বজাধারী এনসিপির রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না আর, বলার প্রয়োজন মনে করি না। তবে ইতিহাসের দায়ে কিছু বিষয়ে নোকতা দিয়ে রাখা জরুরী। দেশে একটা মানুষ মারা গেছে, জামাতের নেতাকর্মীরা তার লাশ দাফন করতে দিচ্ছিল না, মব করে তার জন্য খোঁড়া কবর জোরপূর্বক ভরাট করে ফেলছে।’
এক্ষেত্রে এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ওন করেন। এই তাদের ওন করার নমুনা!’
আরও খবর: একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল জামায়াত, আজ তারাই ঠিক করছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কার কবর কোথায় হবে
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার সময়ে মন্দির প্রাঙ্গণে মন্দিরের অবশিষ্ট ইট ব্যবহার করে মাংস রান্নার ঘটনায় হ্যাডম দেখিয়ে পাল্টা গরু ভোজের আয়োজনের নেতৃত্বে ছিল এনসিপির ছাত্রসংগঠন- ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব!’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের আয়োজক তাহলে কারা, এমন প্রশ্ন করে আব্দুল কাদের বলেন, ‘অথচ ছাত্র শক্তি-শিবির এবং মজলিসের এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্রেডিট নাকি বিরোধী দলের; সরকারের না।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নারীকে ফ্লাইং কিক দেওয়া থেকে শুরু করে জামায়াত নেতা গাজী নজরুলের বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়ে জীবন দেওয়া সেই অসহায় তরুণী, নিপীড়িত নির্যাতিত এমন কোনো নারীর পক্ষে এনসিপি নারী নেতৃত্ব কিংবা দলীয় নেতারা টু শব্দ করেনি, ভিক্টিমদের পাশে দাঁড়ায়নি; তারা রাজনৈতিক কারণে আন্দোলন করেছিল হাতিয়ায় শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ার জেরে ধর্ষণের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার ঘটনায়! অথচ তাদের নতুন বন্দোবস্তে নাকি নারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টা অগ্রভাগে।’